মতিন রহমান,বকশীগঞ্জ(জামালপুর)প্রতি
জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জে একটি বিস্ফোরক মামলার চার্জশিট থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগের তিন শীর্ষ নেতাসহ ১১ জনকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।
গত ৫ ডিসেম্বর পুলিশ আদালতে এই অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেয়। তবে মামলার প্রধান আসামিদের কয়েকজনকে অব্যাহতি দেওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ।
২০২৪ সালের ২ অক্টোবর বকশীগঞ্জ থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলাটি দায়ের করেছিলেন মেরুরচর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আনিছুর রহমান।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছিল, বকশীগঞ্জ উপজেলা পরিষদে গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং হাইওয়ে থানায় নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জড়িত ছিলেন। এতে ১৩৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৩০০ জনকে আসামি করা হয়।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ ১২৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিলেও সেখান থেকে বাদ পড়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন সাকা, কোষাধ্যক্ষ ইদ্রিস আলী এবং স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. অনিল কুমার ধর। বাকি আসামিদের মধ্যে দুইজন মারা গেছেন।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম প্রিন্স বলেন, “আওয়ামী লীগের যেসব প্রভাবশালী নেতা গত ১৭ বছর আমাদের ওপর জুলুম করেছে, তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে পুলিশ পরিকল্পিতভাবে নাম বাদ দিয়েছে। আমরা এই চার্জশিট প্রত্যাখ্যান করছি এবং তাদের নাম পুনর্বহালের দাবি জানাচ্ছি।”
একই ধরনের অভিযোগ করেছেন জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাদ আহাম্মেদ রাজু। তিনি দাবি করেন, প্রভাবশালী নেতাদের বাদ দেওয়ার পেছনে ‘অনৈতিক আর্থিক লেনদেন’ কাজ করেছে।
তবে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বকশীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক মনজুরুল ইসলাম বলেন, “তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি, কেবল তাদের নামই বাদ দেওয়া হয়েছে। এটি একটি আইনি প্রক্রিয়া।”
তদন্ত চলাকালীন বকশীগঞ্জ থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহাম্মেদ জানান, তদন্তের ভিত্তিতেই অভিযোগপত্র তৈরি করা হয়েছে এবং কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে এতে জড়ানো হয়নি।
মামলার বাদী আনিছুর রহমান বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ। তার ছেলে রবিন জানান, তার বাবা স্ট্রোক করার পর থেকে শয্যাশায়ী এবং কথা বলার মতো অবস্থায় নেই। মামলার পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে তিনি সুস্থ হওয়ার আগে কিছু বলতে পারছেন না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্পর্শকাতর এই মামলা থেকে শীর্ষ নেতাদের অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।